বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ সালে প্রণীত হয়। এটি বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের পরিবেশের অবক্ষয় রোধ করা, পরিবেশের মান উন্নত করা এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা।
এই আইনটি পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি করে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
পরিবেশের সাথে প্রাণীজগত ও তার পারিপার্শ্বিকতার যে ওতপ্রোত সম্পর্ক বিরাজমান তা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত আইনসমূহকে পরিবেশ আইন বলে । মানুষের উপজীবিকার একটা গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো ব্যবসায় । এই ব্যবসায়ের ওপর যেমনি প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক বিভিন্ন পরিবেশের প্রভাব অনস্বীকার্য তেমনি ব্যবসায়ের দ্বারাও পরিবেশ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয় । গাছ কেটে ইটের ভাটায় জ্বালানির যোগান দিচ্ছে মানুষ। এতে বন ও গাছ-গাছালি কমে যাওয়ায় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে ইটের ভাটা থেকে নির্গত ধুয়া বায়ু দূষণ করে পরিবেশের ক্ষতি করছে। পোড়া ইটের টুকরা মাটির সাথে মিশে মাটি দূষিত হচ্ছে। এভাবে দেখা যাবে মুনাফা অর্জনের জন্য একজন ব্যবসায়ী পরবর্তী ফলাফল বুঝে বা না বুঝেই পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনছে। রাস্তায় পরিবহণের গাড়ি চলছে এতে শব্দদূষণ, বায়ুদূষণসহ পরিবেশে তার বিরূপ প্রভাব পড়ছে। শিল্পবর্জ্য নির্দ্বিধায় ছেড়ে দেয়া হচ্ছে পানিতে। এতে পানি দূষণ হচ্ছে। এভাবে ব্যবসায় কার্যক্রম এখন পরিবেশ বিনষ্টের মুখ্য কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য প্রয়োজন বিভিন্ন পরিবেশ আইনের এবং তার কঠোর অনুশীলনের।